প্রবাস দর্পণ ডেস্ক:

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপর সন্ত্রাসী হামলার অনুসন্ধান করতে গিয়ে যেন কেঁচো খুড়তে সাপ বেরনোর অবস্থা। ঘটনার নেপথ্য কারণ অনেক কিছু হলেও মূল কারণ নৈতিকতা ও আদর্শ। চেয়ারম্যান মিলন বখত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তৃণমূলের নেতা। জাতির জনক ববঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সংগঠন ছাত্র লীগ, যুব লীগের রাজনীতির মাধ্যমে সমগ্র জেলায় তাঁর পরিচিতি হয়েছে আদর্শে অবিচল আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন সৎ আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে। স্পষ্টবাদী ব্যক্তিত্বের অধিকারী মিলন বখত সম্প্রতি বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনগর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মেজাজী চরিত্রগুণে আলোচিত-সমালোচিত হলেও এলাকার জনগণের ন্যায় বিচার প্রতিষ্টায় তিনি অতুলনীয়। এলাকার মাস্তান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, সরকারী দলের ও প্রশাসনের দুর্নীতিবাজরা তাঁর সততার ভয়ে তটস্থ থাকেন।

বিগত ২৩ মে ২০২০ তারিখে সরকারের ঈদ উপহার হিসেবে ১০০ জন অসহায় পরিবার নির্বাচন করে নগদ সহায়তার আয়োজন করেন ইউনিয়ন পরিষদ। পরিষদের আয়োজনের সাথে আরও ১০০ পরিবারকে সমপরিমান বেসরকারি সহায়তার জন্য সংযুক্ত করে মোট ২০০ পরিবারের প্রতিনিনিধিকে পরিষদ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয় দুপুর ২:৩০ টায়। একইসময়ে সকল ওয়ার্ডের মেম্বারগণসহ বেসরকারি দাতাদের প্রতিনিনিধিরাও উপস্থিত থাকেন ইউনিয়ন পরিষদে। উপস্থিত সকলের সম্মুখে পরিষদের মাহিলা মেম্বার সুফিয়া বেগমও তার দু'টো যুবক ছেলে-সহ তাহারলামুয়া এলাকার ৫০ - ৬০ জনের অধিক জনগণ নিয়ে পরিষদে প্রবেশ করেন এবং সহায়তা গ্রাহিতাদের নির্ধারীত ২০০ জনের তালিকার বাইরে আরও অধিক ৬৮ জনকে ত্রাণ সহায়তা প্রদানের জন্য চেয়ারম্যানের উপর চাপ প্রয়োগ করেন। তার এই বিশৃঙ্খল আব্দারের প্রকৃত কারণ চেয়ারম্যান মিলন বখত তাৎক্ষণিক বুঝে উঠতে পারেননি। চেয়ারম্যান তখন উল্লেখিত মহিলা সদস্যের নিকট জানতে চান যে, এই বিশৃঙ্খল আচরণের কারণ কি?

পরিষদের সদস্যগণের বাছাইকৃত তালিকার বাইরে কাউকে ত্রাণ দেয়া কিভাবে সম্ভব? উভয়ের যুক্তি-তর্কের মাঝখানে মাহিলা মেম্বারের ছেলেরা চেয়ারম্যান মিলন বখতকে নাজেহাল করে আক্রমনে উদ্যত হলে উপস্থিত জনতা চেয়ারম্যানকে রক্ষা করেন। এবং এরূপ অপ্রত্যাশিত সন্ত্রাসী ঘটনায় জনতা বিক্ষোব্ধ হলে মহিলা মেম্বার তার ছেলেদেরসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে দ্রুত পরিষদ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। যাবার সময়ে টেবিলের উপর রাখা ১০ হাজার টাকার বাণ্ডিলের ৪ বাণ্ডিল (৪০ হাজার টাকা) ও পরিষদের দু'টি চেক নিয়ে যায়। চেয়ারম্যান মিলন বখত ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় ফোন করলে জনৈক দারোগা সিপাইসহ এসে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেয়ে থানায় মামলা দিতে বলেন। বিকেল ৩:৩০ টার সময় চেয়ারম্যান থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আসেন। কিন্তু তিনি বাসায় চলে আসার পর ওসি আব্দুল হাসিম চেয়ারম্যানকে ফোন করে জানান যে, উল্লেখিত মহিলা মেম্বার তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা নিয়ে এসেছেন এবং উপর মহলের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর করতে বাধ্য হয়েছেন।

তাঁর দাখিলকৃত মামলা নথিভুক্ত করতে তিনিও (চেয়ারম্যান) যেন উপর মহলে তদবির করেন। অনুসদ্ধানে ঘটনার নেপথ্য অনেক কারণ বেরিয়ে আসছে। মহিলা মেম্বার সুফিয়া বেগমকে দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও চেয়ারম্যান মিলন বখতকে নাজেহাল করার এই ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এর পেছনে রয়েছে একসময়ের ছাত্রদল নেতা, জেলার উদীয়মান শিল্পপতি জনৈক রাজাকারপুত্র ও চেয়ারম্যান মিলন বখত এর রাজনৈতিক প্রতিদন্দী একটি একটি অশুভকর চক্রের কালো হাত। এই নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে সকল বিষয়াদি প্রকাশ করা হবে। বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের সাথে থাকুন। সত্য উন্মোচনই আমাদের কাজ।