প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

রাষ্ট্রিয় পাটকল সমূহ বন্ধ করার সরকারী সিদ্ধান্ত বাতিল করে পাটকল সমুহের আধুনিকায়নে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ - স্কপ এর প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন, করোনার কারণে দেশের এবং বিদেশ প্রত্যাগত কর্মহীনদের জন্য কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের রেশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও করোনাকালে শ্রমজীবী পরিবার প্রতি মাসিক ৮০০০ (আট হাজার) টাকা হারে নগদ সহায়তা করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে আজ সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং একই সময়ে জেলা, উপজেলা, শিল্পাঞ্চলে “সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট” এর উদ্যোগে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীকী অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এর সঞ্চালনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল - বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, বিশিষ্ট লেখক-কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল আহসান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সঙ্ঘের সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রতন মিয়া ও মোহাম্মদ শাহাজালাল। মানববন্ধনে ফোনের মাধ্যমে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতি। পিপিপি এর নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের আয়োজন মেনে নেওয়া যায়না।’

অন্যান্য নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২৫টি পাটকল বন্ধের সরকারী সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেন, করোনা দুর্যোগে সারাদেশে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে অর্ধাহার-অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিনযাপন করছে, চরম অনিশ্চয়তায় পরে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে, প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে অসহায় অবস্থায় দেশে ফিরে আসছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এই কর্মহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নতুন কর্মসংস্থান করা যখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই সময় সরকার বরং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২৫ টি পাটকল বন্ধ করে স্থায়ী, অস্থায়ী, বদলীসহ প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষকে বেকারত্ব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার অমানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাটকলগুলির লোকসানের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংস্কারবিহীন পুরাতন যন্ত্রপাতি, মাথাভারী প্রশাসন, পাট ক্রয়ে এবং ব্যবস্থাপনায় দূর্নীতি, বি.জে.এম.সি‘র সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসুত্রিতা-অদক্ষতাই রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলির লোকসানের কারণ। এরজন্য শ্রমিকরা কোন ভাবেই দায়ী নয়।

পাট মন্ত্রণালয়ের আমলা আর বি.জে.এম.সি‘র কর্মকর্তাদের দূর্নীতির দায়ে শ্রমিকরা কেন বলি হবে এই প্রশ্ন রেখে নেতৃবৃন্দ বলেন মজুতদার ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সিজনে পাট না কিনে অফ সিজনে প্রতি মণ পাট ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা বেশী দামে কেনা হয়। ভেজা পাট ক্রয়সহ অন্যান্য দূর্নীতি সত্ত্বেও শুধুমাত্র সিজনে সারাবছরের উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পাট একবারে ক্রয় করায় ২০১০-১১ অর্থ বছরে এই পাটকল গুলি ব্রেক ইভেন পয়েন্টে ছিল। তাছাড়া আধুনিকায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলির উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ - স্কপ এর পক্ষ থেকে গতবছর ডিসেম্বর মাসে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দাখিল করা হয়। স্কপ দাখিলকৃত পাটশিল্প আধুনিকায়নের প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজন ১০০০ থেকে ১১০০ কোটি টাকা। পাট মন্ত্রণালয় তথা সরকার ১০০০ কোটি টাকা ব্যায়ে আধুনিকায়নের পরিবর্তে ২৫টি কারখানা বন্ধ করতে ৬০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা পরবর্তীতে পরিবেশগত কারণেই বিশ্ব বাজারে পাট পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভবনা রয়েছে। সেই সময় রাষ্ট্রীয় পাটকল সমূহ বন্ধ করে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে পরিচালনার পরিকল্পনা মূলত রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুট করে বেসরকারী পাটকল মালিকদের লাভবান করতে সুবিধাভোগী আমলাদের কৌশল।রাষ্ট্রীয় পাটশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ এই কথা স্ররণ করিয়ে দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন রাষ্ট্রীয় খাত ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র নির্বিঘেœ বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবেনা। নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রাখেন, রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের ব্যায়কে যদি ভর্তুকি হিসাবে ধরা হয় তাহলে সচিবালয়সহ রাষ্ট্র যন্ত্রের কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধ বাবদ ব্যায়কে কেন ভর্তুকি হিসাবে বিবেচনা করা হবেনা? নেতৃবৃন্দ, রাষ্ট্রীয় শিল্প বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করে পাট কল আধুনিকায়নের জন্য বরাদ্দের পাশাপাশি করোনা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমজীবীদের জন্য বিশেষত মোট শ্রম শক্তির ৮৫ শতাংশ পর্যটন, হোটল, রেষ্টুরেন্ট, নির্মাণ, তাঁত, পাদুকা, কুলি, পরিবহনসহ অপ্রাতিষ্ঠানিতক খাতের শ্রমিক এবং বিদেশ প্রত্যাগত শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রিয় উদ্যোগে কর্মসংস্থান, রেশন, আবাসন, চিকিৎসা, স্বস্থ্য বীমা আর করোনার কারণে কর্মহীন সময়ে শ্রমজীবী পরিবার প্রতি মাসিক ৮০০০ টাকা নগদ সহায়তার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, যেভাবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য আদমজী পাটকল কে বন্ধ করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেই একই ভাবে বি.জে.এম.সি পরিচালিত অবশিষ্ট ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে ব্যাক্তিখাতকে সমৃদ্ধ করার নীতিতে রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

বার্তা প্রেরক

সৌমিত্র কুমার দাস -দপ্তর সম্পাদক