জান্নাতে নাদিয়া তামান্না খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

আম্মুর সবচেয়ে পছন্দের জিনিস ছিল শাড়ি। ২০১৮তে আম্মু মারা যাওয়ার পর থেকে শাড়ি পরলেই আম্মুর ভালোবাসা অনুভব করতাম খুব। তখন থেকেই পরিকল্পনা ছিলো শাড়ি নিয়ে কিছু করার। কিন্তু পর্যাপ্ত সময়ের অভাবে সম্ভব হচ্ছিলো না। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে চেষ্টা চালাই ইচ্ছে পূরণ করার। জুন মাসে যাত্রা শুরু হয় আমার অনলাইন পেজ জলিস গ্যালারির। এভাবেই নিজের অনলাইন ব্যবসার যাত্রা শুরুর গল্প বলেন জলি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জলি বিক্রমপুর ভূঁইয়া মেডিকেল কলেজ, মুন্সীগঞ্জের ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত। তার বাবা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সিনিয়র স্টাফ নার্স ছিলেন এবং পরবর্তীতে ব্যবসায়ী। উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাবার থেকেই অনুপ্রাণিত হন তিনি। নিজের টিউশন থেকে জমানো কিছু টাকা দিয়ে শুরু করেন শাড়ির ব্যবসা। দেশীয় জুম, জামদানি, মনিপুরী, ধুপিয়ানী ও কোটা শাড়ি নিয়েই মূলত তার ব্যবসা।

১৮ মার্চ থেকে কোভিড ১৯ এর সংক্রমনের জন্য বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জলি বলেন, ‘লকডাউন আমার শখ বা ইচ্ছা পূরণের উপযুক্ত সময় মনে হয়েছে। আমাদের সবার কিছু ইচ্ছা বা শখ থাকে যেগুলো হয়ত সময়ের অভাবে পূরণ করতে পারি না, সম্ভব হলে এই লকডাউনের সময়টাকেই যার যার ইচ্ছা পূরণের কাজে লাগানো যায়।’ ভবিষ্যতে পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি জানান, ‘ক্লাস শুরু হলে প্রেসার হয়ে যাবে। কিন্তু শখের এই জিনিসটা ছাড়তে চাই না।

ইচ্ছা আছে নিজের জমানো টাকা দিয়ে আম্মুর নামে মাসুমা মেমোরিয়াল হাসপাতাল বানানোর। তার আগে পর্যন্ত খুব পরিশ্রম করতে হবে। শাড়ি নিয়ে কিছু করার ইচ্ছাটা নিজের জমানো স্বল্প পুঁজি দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

এখান থেকে উপার্জিত টাকাটা মাসুমা মেমোরিয়াল হাসপাতালের জন্য ধীরে ধীরে জমানোর ইচ্ছা আছে।’