প্রবাস দর্পণ ডেস্ক:

বিহিত গুপ্ত চৌধুরী বাবলা। কয়েকজন কুলাঙ্গার কর্তৃক সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে তরুণী নববধূকে ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধের একটি সাহসী নাম। বাংলাদেশের যুব-তরুনের সাহসের প্রতীক। এই বাবলার চৌধুরীর সাহসী ভূমিকার জন্য এমসি কলেজের নারী নির্যাতক ধর্ষকরা আইনের আওতাধীন হয়েছে। বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। নিজে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থেকে, সাবেক ছাত্র লীগের নেতা হয়েও নিজ দলের দুষ্কৃতকারীদের ধরিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত ছিলেন না সাবেক এই ছাত্র লীগ নেতা।

বৃহত্তর সিলেটের বিদ্যাশিক্ষার হৃৎপিণ্ড বলে খ্যাত এই মুরারী চাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। অসংখ্য জ্ঞানী গুণী রাজনীতিবিদ বিজ্ঞানীর জন্ম দিয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এই কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বৃহত্তর সিলেট ও দেশের নানা প্রান্তের ছাত্ররা এখানে ভর্তি হয়ে বিদ্যা অর্জন করেন। মেধাবী ছাত্ররা এসে এই কলেজে ভর্তি হয়। ভালো ফলাফল নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষে দেশ গঠনের কাজে সম্পৃক্ত হয়। কেউ কেউ আসীন হয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে। অথচ, কিছু ছাত্র নামধারী কুলাঙ্গার ও অছাত্র মিলে এমসি কলেজের ইতিহাসের বর্বরতম জঘন্য ঘটনা ঘটিয় সিলেটের পবিত্র মাটি কলংকিত করল। অতীতে এই কলেজের ছাত্র রাজনীতির সুস্থ ধারার নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজনগর উপজেলার বহু ছাত্র নেতা। কেউ ছিলেন ছাত্র লীগের কেউ ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্র লীগ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের। বিহিত গুপ্ত চৌধুরী বাবলাও ছিল সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতির এমসি কলেজের সাবেক ছাত্র নেতা। ছাত্র লীগের সিলেট জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর দুঃসাহসিক প্রতিবাদী ভূমিকা দেশের লাখো তরুন-যুবকের প্রেরণার উৎস হয়েছে। তাঁর এই সাহসী ভূমিকা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রকৃত উত্তরসুরীর ভূমিকা পালন করছে। রাজনগরবাসী বাবলা চৌধুরীর এই সাহসী ভূমিকার জন্য আজ গর্বিত।

বাবলা চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি রাজনগর উপজেলার দাশ পারা গ্রামে। তাঁর পরিবার পূর্বপুরুষরা জমিদার ছিলেন। বিপ্লবী লীলা নাগের পিতৃভূমি হলো এই রাজনগর। সাম্প্রতিক দেশব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের প্রথম প্রতিবাদী বীর পুরুষ হিসেবে মূল্যায়িত করে বাবলা চৌধুরীকে সংবর্ধনা দিল রাজনগর উপজেলার বৃহৎ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মেধা-সংস্কৃতি বিকাশ সমাজকল্যাণ পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ ইকবালের সভাপতিত্বে নারীর প্রতি সহিংসতা রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় অন্যান্য বিশিষ্টজনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ অবঃ আব্দুল মুজীব, অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম জিল্লুল হক, অধ্যাপক শাহারা রুবি, অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ফরজান মিয়া, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তি চক্রবর্তী, বিমল গুপ্ত চৌধুরী, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক চৌধুরী, উপজেলা যুব লীগ এর সভাপতি মোঃ ময়নুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ প্রবাল চন্দ্র দাশ, নাট্যকার খালেদ চৌধুরী, শিক্ষক শ্রীপদ বৈদ্য, শিক্ষক রেজওয়ানুল হক পিপুল প্রমখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন খছরু চৌধুরী। উক্ত অনুষ্ঠানে রাজনগর উপজেলার সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২৯ জন সম্মানীত ব্যক্তিকে সংস্থার পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।