শরিফ চৌধুরী, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নব্বই বছর বয়সী নুর চান বিবি। প্রায় ১২ বছর আগে স্বামী কেরামত আলীকে হারিয়েছেন। দুই ছেলে তিন মেয়েকে বুকে আগলে রেখে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। শত কষ্টেও করো কাছে হাত পাতেননি। ছেলে, মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা শ্রমিকের কাজ করে।

বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে একাকী, নিঃসঙ্গ, মানতবের জীবন কাটছে অশীতিপর এই বৃদ্ধার। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের বারা পইত গ্রামের বাসিন্দা ছেলেদের নিয়ে নুর চান থাকেন । লোকমুখে শুনেছেন সরকার বয়স্কদের সবাইকে ভাতা দিচ্ছে। এখন শোনার পর থেকেই নুর চান বেগমের একটাই প্রশ্ন আমার ভাতা কই ? সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, বয়সের ভারে ন্যুজো নুর চান অসুস্থ। তবুও প্রাণবস্ত তার হাসি। নুর চান বলেন, কবে আমি বয়সস্কভাতার কার্ড পাব ?

সন্তানের কথা জানতে চাইলে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে নুর চান বিবি’র। ভিজে যাওয়া চোখে নুর চান বলেন, সন্তানেরাও দরিদ্র, তবু ওরা যখন যা পারে তাই দেয়। শুনেছি সরকার দরিদ্র মানুষদের চাল, বিধবাভাতা বয়স্কভাতা দেয়। কিন্তু আমি পাই না। মেম্বরের কাছে বহুবার বলেছি কিন্তুই দেয়নি। তবু ও কারোর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। কখন মরে যাই জানি না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ও যদি বয়স্কভাতাটা পেতাম তাহলে এত কষ্টের জীবন একটু ভালোবাসে কাটিয়ে যেতাম। কিন্তু আমি পাই না।

এ ব্যাপারে নুর চানের ছেলে জিতু মিয়া বলেন, আমার মা’র একটি বয়স্ক ভাতা কার্ডের জন্য অনেকবার মেম্বারের কাছে গিয়েছিলাম মেম্বার আমাকে কোনো পাত্তা দেয়নি। জানতে চাইলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোস্তাফা জামাল বলেন, ওই নারী বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য তালিকা তৈরি করে রেখেছি যখন আরেকবার আসে তখন সে কার্ড পাবে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকতা সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে নুর চানের ভাতার ব্যবস্থা করব। বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো বয়স্ক ভাতা কার্ডে নেই পরবর্তীতে আসলে তাকে দেওয়া হবে।