মোরশেদ আলম,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সদস্য, দৈনিক আমাদের সময় এর উপজেলা প্রতিনিধি বিজন কৃষ্ণ রায় চন্দন (৫৪) ও দুর্গাপুর কাচারি মাদরাসার নুরানী বিভাগের শিক্ষক মাওলানা আবুল কাশেম ময়মনসিংহ থেকে বাড়ী ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে ট্রাক ও সিএনজির মুখােমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাংবাদিক বিজন কৃষ্ণ রায় দুর্গাপুর পৌর শহরের বাগিচাপাড়া এলাকার স্বর্গীয় বিশ্বেশ্বর রায়ের ছেলে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব মিটিং শেষে বাড়ী ফেরার পথে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কের তারাকান্দা উপজেলার গাছতলা এলাকায় সিএনজিটি পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রতগতির ট্রাকের সাথে মুখােমুখি সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাংবাদিক চন্দন। স্থানীয় ও শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় গুরুতর আহত অন্য দু'জন দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের সাতাশি গ্রামের স্বপন মিয়া এবং দুর্গাপুর কাচারি মাদরাসার নুরানী বিভাগের শিক্ষক মাওলানা আবুল কাশেম কে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মাওলানা আবুল কাশেম মৃত্যু বরণ করেন।

শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নয়ন দাস এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।, ইতােমধ্যে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক ও সিএনজি জব্দ করা হলেও ট্রাক ও সিএনজি চালকদ্বয় পলাতক রয়েছে। এ নিয়ে কোন অভিযােগ না থাকায় লাশের সুরতহাল শেষে সাংবাদিক বিজন কৃষ্ণ রায়ের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে সাংবাদিক বিজয় কৃষ্ণ রায়ের মরদেহ নিয়ে আসা হয় দুর্গাপুর প্রেসক্লাব চত্বরে । প্রশাসন, সাংবাদিক, সহকর্মী সহ তার মৃতদেহের শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের নাগরিকরা । সহকর্মীকে হারিয়ে প্রেসক্লাব চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন সহকর্মী সাংবাদিকরা । প্রেসক্লাব চত্বর থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পৌরশহরের বাগিচা পাড়া বাসায় । এখানেও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন শোকাহত পরিবারের সদস্যরা ‌। রাত এগারো টার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি চন্ডিগড়ের কেরানখলা গ্রামে । ধর্মীয় রীতি নীতি অনুসারে স্থানীয় শ্মশানঘাটে রাত ১ টার পর তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত অপর আরেকজন জামিয়া মাদানিয়া জামিউল উলুম কাচারি মাদ্রাসার বাংলা নূরানী বিভাগের প্রধান শিক্ষক মাও আবুল কাশেমের অকাল মৃত্যুতেও যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা । মধ্যরাতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় কাচারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে । আজ সকাল সাড়ে দশটায় ঈদগা মাঠে তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্ঘটনায় দুইজন নিহতের প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তর ছিলো দুর্গাপুর । রাতে পৌর শহরের দক্ষিণপাড়া মোড়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা । এছাড়াও কাচারী মোড়ে একটি গাড়ি ভাংচুরসহ শুধুমাত্র যাত্রীবাহী গাড়ি বাদে সকল প্রকার গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা । তাই সন্ধ্যার পর থেকেই দুর্গাপুর শ্যামগঞ্জ মহাসড়কে যাত্রীবাহী যান ছাড়া বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার যান চলাচল । তাদের এই অকাল মৃত্যুতে, দুর্গাপুরের সর্বস্তরের মানুষ, নিহতের পরিবার পরিজন,নিহতের বন্ধু মহল গভীর শােক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।