রিপন দাস বগুড়া ব্যুরো প্রধান :

বছরের বিভিন্ন সময়ে উৎপাদিত ফল ও সবজির অপচয় রোধের পাশাপাশি সারা বছরই এ পণ্য থেকে চিপস তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। ভ্যাকুয়াম ফ্রাইং মেশিন ব্যবহার করে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার আম কাঁঠালসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজির অপচয় রোধ করা সম্ভব।

সার্ক ডেভলপমেন্ট ফান্ডের সহযোগীতায় বাংলাদেশসহ সাকর্ভুক্ত পাঁচটি দেশে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়। আম, কাঁঠাল ও কলাসহ বিভিন্ন ফল ও সবজির অপচয় রোধে বগুড়া ও গাজিপুরে ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালে গবেষণা শুরু করে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। তিন বছর মেয়াদী ওই গবেষণায় উঠে আসে বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল নষ্ট হয় যেমন আম ও কলার ৩০ ভাগ এবং কাঁঠালের প্রায় ৪০ ভাগ। এই পাইলট প্রকল্পে দেখানো হয়েছে সবজি বা ফল থেকে কিভাবে চিপস তৈরি করে বাজারজাত করা যায়। সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়া সবজি কিংবা ফল থেকে চিপস তৈরী করে ১০গুণ পর্যন্ত লাভবান হতে পারেন কৃষক। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কানপুর গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “কৃষি কাজের পাশাপাশি অন্যান্য কাজ করে সংসার চালানো তার জন্য অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু আরডিএ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন সবজি ও ফল থেকে চিপস তৈরি করে এখন অনেক আয় করা সম্ভব।” কলার বাজার দর অনেক কম হওয়ায় লাভ বেশি হতো না। তবে এখন এ কলা থেকে চিপস তৈরি করে প্রায় ১০গুণ লাভ হচ্ছে পাশাপাশি বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি বলে জানান, শহিদুল ইসলাম।

আরডিএ- এর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা ও ফোকাল পারসন মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ায় বিভিন্ন ফল ও সবজি অপচয় রোধের লক্ষ্য নিয়ে মূলত এমন উদ্যোগ নেয়া। এর পাশাপাশি যেহেতু এটি একটি গবেষেণা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখান থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে কৃষক শ্রেণির পাশাপাশি যে কেউ ফল বা সবজির চিপস তৈরি করতে পারবে।

” স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) তাদের “ক্ষুদ্র পরিসরে কৃষিপণ্য ব্যবসা ও ভ্যালু চেইন উন্নয়নের মধ্যমে সার্ক অঞ্চলের ক্ষুদ্র কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প” এর তথ্য বিশ্লেষন করে এ তথ্য দিয়েছে। দেশে তৈরি ভ্যাকুয়াম ফ্রাইং মেশিনে সারা বছরই কোন না কোন ফল বা সবজি থেকে বছর ধরে খাওয়ার মতো চিপস তৈরি করা সম্ভব। এসডিএফ ও আরডিএর যৌথ অর্থায়নে এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে অভাবনীয় সাফল্য আসবে বলে দাবি কর্মকর্তাদের। আরডিএ- এর মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব খলিল আহমদ জানিয়েছেন, “ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন করার জন্য মূলত কাজ করা। এছাড়াও দেশে উৎপাদিত নানা ধরনের ফল ও সবজি সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে নষ্ট হয়। এসব পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে কিভাবে কৃষকরা লাভবান হতে পারে তারই একটি গবষেণা চালানো হয়েছে। আর এখন এর সফলও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।

” তিনি আরো বলেন, দেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির যে পরিমাণ নষ্ট হয় তাতে আর্থিক ক্ষতি হয় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।” শুধু আম, কাঠাল বা কলাই নয়। এ প্রকল্পের আওতায় বগুড়ার ৫০ জন কৃষক ছাড়াও গাজীপুরে আরো ৫০ জন কৃষক যৌথভাবে টমেটোর সস ও কেচাপ উৎপাদন ও বিপণন করে সাবলম্বি হচ্ছেন। প্রশিক্ষণে আসা নারীরাও জানিয়েছেন এ প্রকল্পের নানা উপকারের কথা। সংসারে পুরুষের আয়ের উপর নির্ভর না করে নিজেরাও সাবলম্বি হতে পারবেন আগামীতে।