-এ কে এম বেলায়েত হোসেন কাজল

করোনা ভাইরাস যে একটি গুরুতর প্রাণঘাতী মহামারী বাংলাদেশ সরকারের এমপি মন্ত্রীরা ১৭ মার্চের আগে কখনো স্বীকার করেনি বা বোঝার চেষ্টাও করেননি। যখন করোনা ভাইরাস চীন থেকে শুরু করে এশিয়া আমেরিকা ইউরোপের শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়লো। তখনো সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এমপি মন্ত্রীরা জনগণকে বুঝাতে চেষ্টা করছিল করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নাই। সাধারণ সর্দি কাশি জ্বরের মত একটি মামুলি অসুখ। বিশ্বের সব দেশে এই সমস্যা থাকলেও আমাদের একজন ঈশ্বর প্রদত্ত দেবদূত আছেন যার কল্যাণে করোনা ভাইরাস আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কর্মকর্তারা করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতির চেয়ে তার বন্দনা গাইতে বেশি ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। দেশের কয়েক কোটি মানুষ বিদেশে থাকেন। বছর শেষে এদের অনেকেই ছুটিতে দেশে আসেন। যে কেউ দেশে আসতে চাইলে অবশ্যই আসবে।তার উপর যেহেতু দেশ নিরাপদ, এখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত দেশে পড়ে না থেকে প্রবাসীরা দেশে আসতে শুরু করেন। বাংলাদেশে করোনা ঝুঁকি আছে এখানে কোন অবস্থাতেই নিরাপদ নয় এমন তথ্য থাকলে অনেকেই উন্নত চিকিৎসা সুবিধা ফেলে কেউ দেশে ফিরে আসতো না। করোনা ভাইরাস ছোঁয়াচে রোগ,কিন্তু পূর্বে আক্রান্ত দেশ থেকে কেউ আসলেই দেশে এই রোগ ছড়িয়ে পড়বে এমন তথ্যও তখন কারো জানা ছিল না। তাছাড়া তখনো করোনাকে বিশ্বমারী হিসেবে ঘোষণাও করা হয়নি। বিদেশ ফেরত যাত্রীদের পরিক্ষা নিরিক্ষায় সরকারের প্রস্তুতি ছিল একেবারেই ঢিলেঢালা। বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানারের অভাবে যাত্রীদের পরিক্ষা না করে সাধারণ কয়েকটি মামুলি মৌখিক প্রশ্ন করে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের অবাধে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত পরীক্ষার অভাবে সরকার অথবা জনগণ জানলোই না যে, কে করোনা ভাইরাস শরীরে বহন করে দেশে ঢুকলো আর কে সুস্থ শরীরে দেশে ঢুকলো! এমনকি সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ বিমান পাঠিয়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া চীনে আটকে পড়া ৩৮৪ জন যাত্রীকে দেশে নিয়ে আসার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন দূরের কথা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে বলেও কোন কড়াকড়ি করতে দেখা যায়নি। বরং অনেকেই দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গিয়েছিল তখন। বিদেশীদের ন্যায় বাংলাদেশ সরকার থেকে বলা হয়েছে বিদেশ থেকে দেশে আসা সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কোয়ারেন্টাইন কি দেশের অনেকেই তখন বুঝতো না। সরকারের উচিত ছিল সহজবোধ্য বাংলা ভাষায় বিস্তারিত বুঝিয়ে বলার। অর্থাৎ আপনজন, স্ত্রী সন্তান মা বাবা ভাই বোন পাড়া প্রতিবেশীর সাথে সঙ্গত্যাগ করে নির্দিষ্ট একটি সময় ঘরের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখতে হবে। এখন সরকারের যখন ঘুম ভেঙ্গেছে পৃথিবী তখন অবরুদ্ধ। চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পৃথিবীর প্রায় ২শর অধিক দেশের ৬ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। ৩০ হাজার ১৫২ জনের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ইউরোপের দেশ ইতালি এবং স্পেন। বলা হচ্ছে ইতালি ও স্পেনে দ্রুত করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আটলান্টা-ভ্যালেন্সিয়ার মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ। কারণ ওই ম্যাচটি দেখতে একসঙ্গে ৪০ হাজার দর্শক ইতালির মিলান স্টেডিয়ামে সেদিন জড়ো হয়েছিল। আটলান্টার দর্শক ছাড়াও ওই ম্যাচটি দেখতে ২৫শ স্প্যানিশ ফুটবল সমর্থক ইতালির মিলানে ভ্রমণ করেছিলো। দর্শকরা একসঙ্গে আনন্দ উপভোগ করেছে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছে, চুমু খেয়েছে। বারে ডিস্কোতে ফুর্তি করেছে এক সঙ্গে আড্ডা দিয়েছে। খেলা শেষে সমর্থকরা গোটা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। খেলার দুইদিন পর ইতালিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগের সনাক্ত করা হয় বলে জানা যায়। ইতালি সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে অনুরোধ করে। করোনা মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে বলে জনগণকে আশ্বস্ত করে। মার্চের প্রথমদিকে ইতালিতে করোনায় নিহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গেলে সরকার দক্ষিণাঞ্চলের সাথে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ বন্ধ অর্থাৎ লক ডাউন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সরকারে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা সরকারি ভাবে ঘোষণার পূর্বেই জনসম্মুখে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বীতশ্রদ্ হয়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রাইভেট কার, বাস ট্রেন টেক্সিক্যাব যোগে করোনা আক্রান্ত এলাকা ত্যাগ করে বিভিন্ন শহরে ছুটে চলে আসে। আস্তে আস্তে করোনা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় শৈথিল্য প্রদর্শন করায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গিয়েছে। আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর দিক দিয়ে ইতালি এখন তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। নানান গড়িমসির পর প্রবল প্রতিবাদের মুখে সরকার ১৬ মার্চ দেশের সকল স্কুল কলেজ মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন। ছুটি থাকাকালীন এই সময়টিতে শিক্ষার্থীরা যেন বাড়িতেই থাকেন সেটি নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানায় সরকার। দেশে তিনজনের মৃত্যু এবং ৩৩ জন আক্রান্ত হওয়ার পর ২৫ মার্চ সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসমাগম ত্যাগ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ ঘরে অবস্থানের জন্য সকল অফিস আদালতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দশ দিনের টানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। ওই ঘোষণার পরপরই সাধারণ মানুষ ঘরে না থেকে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশন গুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন, যা প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণে সহায়ক।উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সরকার ২৬ তারিখ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত সড়ক পথে বাসসহ সকল ধরনের যাত্রীবাহী গাড়ি, ট্রেন, নদী পথে লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তার আগে চারটি ছাড়া সব দেশের সাথে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির তালিকা তৈরি এবং বিদেশ থেকে ফেরা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে থাকা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপগুলোয় সহায়তা ও সমন্বয় করবে। এছাড়া বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনে মেডিকেল সহায়তা দেবে বলে জানা যায়। চিকিৎসা সেবা পাওয়া যে কোন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে সে ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। জাতীয় বাজেটের যে হাজার হাজার কোটি টাকা এই খাতে বরাদ্দ করা হচ্ছে তা লুটপাটের কারণে জনগণের কোন কাজেই আসছে না। বলা হয় ডাক্তারি পেশা একটি মহান মানবিক পেশা। সেবার ব্রত নিয়েই ডাক্তারি পেশায় আসতে হয়। ডাক্তাররা সেবার ব্রত নিয়েছেন তা ঠিক । তাই বলে, রোগীর জন্য আত্মহত্যা করার প্রতিজ্ঞা তো করেনি তারা। তাদেরও জীবন আছে, আমার আপনার মত জীবনের প্রতি তাদেরও মায়া আছে। মরণঘাতি ছোঁয়াচে রোগ করোনা থেকে বাঁচার জন্যে ডাক্তার-নার্সসহ হাসপাতাল কর্মীদের জন্য অপরিহার্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ না থাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ডাক্তার বা সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের কোথাও চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছেনা। চিন্তা করাযায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ল্যাবরেটরি আছে মাত্র একটি। সংক্রামক রোগের চিকিৎসার পুরোনো প্রতিষ্ঠান রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল গুলোয় সাধারণ সর্দি কাশি জ্বরের মত উপসর্গ থাকলে কোন রোগী ভর্তি করতে রাজি হচ্ছে না। এম্বুলেন্সের অভাবে রোগী আনা নেওয়া করা যাচ্ছে না। সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে চীন ইতালি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু সংখ্যক চিকিৎসক ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে নিজেরা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। বাংলাদেশে দুইজন চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে গিয়ে নিজেরা অসুস্থ হয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এতে করে অন্যদের মধ্যে আরো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে গিয়ে কোন সেবা না পাওয়ার অভিযোগ সর্বত্র। করোনা ভাইরাসের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে সরকারের দেওয়া হট লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা চেষ্টা করে কাউকে পাওয়া যায় না । কেউ টেলিফোন রিসিভ করে না বলে সবাই অভিযোগ করছে। কেউ ধরলেও নিজেদের সামর্থ্য এবং অপরাগতার কথা বলে টেলিফোন রেখে দিচ্ছেন। আইইডিসিআর'এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা প্রতিদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসে দাবি করেন গত চব্বিশ ঘণ্টায় তাদের দেওয়া হট লাইনে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টেলিফোন কল আসে। ২১ জানুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে ৪ লক্ষ ৪৯ হাজার টেলিফোন কল তারা রিসিভ করেছেন। তন্মধ্যে সবই ছিল করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ বা সেবা গ্রহণের জন্য পরামর্শ জানতে চেয়ে। পরিচালকের দেওয়া তথ্য যদি সত্যি হয় তাহলে চিন্তা করা যায় দেশে কত লক্ষ মানুষ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন! অথচ ৯০-১০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে সরকারের পক্ষ দাবি করা হয় গত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নতুন কোন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী দেশে পাওয়া যায়নি! যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বার বার জোর দিয়ে বলছে পরীক্ষা পরীক্ষা পরীক্ষা যত পরীক্ষা তত পজেটিভ। অর্থাৎ পরীক্ষা না করে কোন ভাবেই নিশ্চিত হওয়া যাবে না কেউ করোনা মুক্ত। করোনা পরিক্ষার প্রয়োজনীয় কিট না থাকায় উপসর্গ দেখা দিলেও আইইডিসিআর পক্ষ থেকে পরিক্ষা নিরিক্ষা না করে আক্রান্তদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই মাসের ১০তারিখে সরকারের দেওয়া হিসাব মতে সরকারের হাতে ২ হাজার কিট আছে বলে দাবি করা হয়। সর্বশেষ দু'দিন আগে চীনের দেওয়া উপহার সামগ্রীর বাদ দিলে প্রয়োজনের তুলনায় যা অতি নগন্য।এত অল্প সংখ্যক কিট নিয়ে করোনা ভাইরাসের মত মহামারী মোকাবিলায় সরকারের আগাম প্রস্তুতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুই মাসের অধিক সময় পেলেও সরকার করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য বা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চিকিৎসার সাথে জড়িত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের মজুদ বৃদ্ধি না করে সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারের হিসেব মতে দেশে যে হারে আক্রান্ত দেশ থেকে প্রবাসীরা দেশে প্রবেশ করেছে এবং সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম না মেনে যত্রতত্র জনসমাগমে মিশেছে বা করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ হাজার মানুষ তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে সেই হিসেবে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সরকারের দেওয়া তথ্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হওয়ার কথা। যদিও প্রথম থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে বিদেশ আগত প্রবাসীদের মাধ্যমে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। কিন্তু সরকারের দেওয়া ৪৮ জনের তালিকায় প্রবাসীদের চেয়ে অপ্রাবাসীদের সংখ্যাই বেশি। নিহত ৫ জনের মধ্যে কোন প্রবাসীর নাম নাই। প্রশ্ন হচ্ছে যদি প্রবাসীরা বাহির থেকে এই ভাইরাস বহন করে দেশে নিয়ে আসে তাহলে তাদের আগে অসুস্থ হওয়ার কথা। অথচ ভাইরাস বহনকারীর চেয়ে তার দ্বারা সংক্রামিত রোগী বেশি মৃত্যুবরণ করেছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন সন্দেহজনক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি লাইভে এসে আইইডিসিআর' এর অসহযোগিতা এবং সীমাহীন ব্যর্থতার কিছু কিছু কাহিনী অত্যন্ত করুণ মর্মস্পর্শী ভাষায় তুলে ধরতে দেখা গিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাথে যোগাযোগ করেও কোন রূপ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছেন অনেকে। অথচ আইইডিসিআর' পক্ষ থেকে প্রতিদিন জনসম্মুখে কাল্পনিক সেবা দানের চিত্র তুলে ধরা হয়। কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই দাবি করা হচ্ছে দুইজন বা চারজনের বেশি দেশে নতুন কোন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এখানেই আসলে ভুল তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে ৷ কারণ, তারা যে বলছেন করোনায় নতুন কেউ আক্রান্ত হননি, কিভাবে বলছেন? তারা কতজনকে পরীক্ষা করেছেন? অধিকাংশ সন্দেহজনকেই তো পরীক্ষা করা হচ্ছে না৷ আপনি পরীক্ষা না করলে কিভাবে বুঝবেন আক্রান্ত হয়নি? এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ মানুষকে পরীক্ষা করা দরকার৷ সেখানে তাদের দাবি অনুযায়ী চব্বিশ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা হচ্ছে ১০৯ জনকে৷ তাহলে তো বলা যায় পরীক্ষা না করেই করোনার প্রকৃত তথ্য গোপন করা হচ্ছে। তবে একটা জিনিস খুব আশ্চর্য লাগছে। জীবিত অবস্থায় শত চেষ্টা তদবির করে স্থানীয় প্রশাসন বা আইইডিসিআর'এর অবহেলায় রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে কাউকে দেখা না গেলেও। বিনা চিকিৎসায় নিদারুণ কষ্টে অবহেলায় অযত্নে করোনা আক্রান্ত রোগের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করলে জীবিত অবস্থায় না হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতব্যক্তির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর'এ পাঠাতে দেখা যাচ্ছে। নানান প্রতিকূলতা, লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরে থাকার জন্য সাধারণ ছুটি পেয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে না মেনে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে পঙ্গপালের মত দল বেঁধে গ্রামে গঞ্জে ছুটে গিয়ে, শহর বন্দর গ্রাম সর্বত্র হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘিন ঘিনে হাসপাতালের পরিবেশ, ডাক্তার নার্স থেকে শুরু করে এর সাথে জড়িতদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে জীবন হুমকির মুখে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অনাগ্রহ সর্বোপরি সরকারের নির্লিপ্ততার পরেও যারা এখনো করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে এই যেন করোনার বিশেষ করুণা ছাড়া আর কিছুই নয়। - এ কে এম বেলায়েত হোসেন কাজল ইতালি প্রবাসী ।