জাহিদ আল মামুনঃ

পেট্র ডলারের স্বপ্নে বিভোর হয়ে অনেক মানুষ পাড়ি জমায় এখানে। কাঠফাটা রোদে রাজমিস্ত্রির জীবন, কিংবা সাগরের উত্তাল ঢেউ এর তালে যেখানে চাপা পড়ে অনেক স্বপ্ন। তবুও একটু ভালো থাকা আর নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য দেশ -মাটি- আপনজনের বিচ্ছেদ মেনে প্রায় আট লক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসী হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে। যার অধিকাংশই কম মজুরীতে নানা পেশায় যুক্ত-বাগানের কাজ, কৃষি কাজ, দোকান কর্মচারী, নরসুন্দর বা টেইলর যাই হোক না কেন অন্যদেশের নাগরিকের তুলনায় তার উপার্জন কম। এর বহুবিধ কারণ রয়েছে। কিন্তু তারাও স্বপ্ন দেখে তাদের সন্তান পরিজন কে সাথে নিয়ে এক সাথে বসবাসের। কোনভাবে অনুমতি সংগ্রহ করে অনেক কষ্টে তারা দিনযাপন করে এখানে।

সন্তানের শিক্ষার জন্য খুব সচেতন না হলেও তারা চায় তাদের সন্তান যেন থাকে 'দুধেভাতে'। সেই স্বপ্নপূরনের জন্যই এখানে একে একে গড়ে উঠেছে পাঁচটি স্কুল। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ মেলে যেখানে। পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা নিশ্চিত করতে যেয়ে হিমশিম খেত হয় কৃর্তপক্ষকে। কেবলমাত্র টিউশন ফি থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে স্বভাবিক সময়েই যখন স্কুল চালানো কঠিন তখন এই 'লকডাউন' পরিস্থিতিতে সত্যিকার অর্থেই তা দুরূহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ স্কুল জালান তার অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে পড়েছে। রাজধানী থেকে ৩৫০ কি,মি, দূরের ছোট একটি শহর জালান এখন ওমানের করোনা আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয়তম 'হটস্পট' হিসেবে চিহ্নিত। এই শহরের বাঙালিদের বাসবাস যে অঞ্চলে তার নাম 'খলিফা পট্টি' বা 'টেইলর পট্টি' প্রায় তিনহাজার বাঙালির বসবাস এখানে। যাদের অধিকাংশের পেশা টেইলরিং। গত প্রায় দুইমাস তারা লকডাউনের প্রভাবে কর্মহীন। প্রায় ১২০ জনের শরীরে মিলেছে কোভিড-১৯। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে। এই পরিস্থিতিতে স্কুলের টিউশন ফি পরিশোধ করা অকল্পনীয়। তাইতো বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ স্কুল জালানের শিক্ষক -কর্মচারী। গত মার্চ মাস থেকে তাদের বেতন বন্ধ। বাড়িওয়ালার ভাড়ার জন্য চাপ কিংবা প্রতিদিনের সংসার পরিচালনার ব্যয় নির্বাহ এ সকল দুশ্চিন্তার মধ্যেও তারা দূরশিক্ষণের মাধ্যমে পাঠদান করে চলেছেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে স্বাভাবিক রাখতে। উপরন্তু স্কুলের বোর্ড অব ডিরেক্টরস (বি ও ডি) এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী তিন মাস মূলবেতনেরও একটি অংশ কেটে নেওয়ার ( বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য সকল ভাতা না দিয়ে) যা তাদের জন্য মরার উপরে খাড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে। এমনিতেই এখানে যারা শিক্ষকতা করেন তারা পেশাগত নানা সুবিধাবঞ্চিত, একরকম সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন তাদের স্বপ্নগুলো। এখন একমাত্র উপায় সরকারের আশু পদক্ষেপ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তদারকি, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দই পারে শিক্ষার্থী - শিক্ষক ও অভিবাবকদের দুশ্চিন্তা দূর করে স্কুলটিকে রক্ষা করতে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন এখানে ব্যবাসা পরিচালনা করেন এমন বিখ্যাত সব বাংলাদেশী কোম্পানি,ব্যাংক, মানবিক ও দানশীল ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান -যারা মনে করেন একটি স্কুলের মাধ্যমেই ফুটে ওঠে হাজার হাজার স্বপ্নের বীজ, তাকে রক্ষা করতে না পারলে মৃত্যু ঘটে অজস্র সম্ভাবনার।

জাহিদ আল মামুন অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ স্কুল জালান ওমান। This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it., +96893858252)