এইচ এম,দবির তালুকদার স্পেন থেকেঃ

স্পেনে শব্দের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিডি ১৯করোনা ভাইরাস সংক্রামক ব্যাধি! বাংলাদেশীসহ দেশটিতে এপর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৭,৩৯৫ ছাড়িয়ে গেছে! নিউজটি আপলোড করা পর্যন্ত স্পনে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৩ এবং সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ১১৯১জন রোগী! এরইমধ্যে করুনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে শুধু মাদ্রিদ হসপিটাল গুলির আইসোলেশনে আছেন ৫৬৩৭জন রোগী!দেশটির সাহিত্য  স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কাতালোনিয়ার  বার্সেলোনা হসপিটাল গুলিতে ভর্তি হয়েছেন ১৮৬৬জনের ও বেশি রোগী! তাছাড়াও দেশের অন্যান্য শহরগুলিতে নতুন রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে! কোভিডি ১৯নতুন এ ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তার রোধে ১৫দিনের পরীক্ষামূলক সতর্ক অবস্থা জারি করেছে স্পেনের সরকার! ইতিমধ্যে স্পেনের সাথে বিশ্বের করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সব কয়টি দেশের স্থল জল ও বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে! কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে সরকার,বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সকল স্কুল, কলেজ ,শপিং মহল,কফি বার মিউজিক বার,রেস্টুরেন্ট খেলার মাঠ জিমনেসিয়াম ,ক্যাসিনো ,ছোট ছোট বাচ্চাদের বিনোদনের পার্ক, মিটিং-মিছিল ও গন সমাগম! খোলা থাকবে শুধু ফার্মেসি গ্রোসারি শপ ও সুপার মার্কেট গুলি! হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে হয়েছে দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ! কেহ বিনা প্রয়োজনে বাহিরে গেলে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের পুলিশে জরিমানা আইন লঙ্ঘনকারীর জন্য জেল বাধ্যতামূলক! এমতাবস্থায় নিজ নিজ ঘরে নিরাপদে থাকতে হবে সবাইকে এ অবস্থা ঝাড়ি থাকবে আগামী ২৯এপ্রিল পর্যন্ত ! স্পেনে অবস্থানরত প্রায় ২২ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীদের ও চলছে কর্মবিরতি শুধু মাদ্রিদ শহরভিত্তিক বসবাস করেন প্রায় ১১হাজার বাঙালি আর খাদ্যভ্যাস একটু আলাদা বাংলাদেশি পণ্যের অনেক চাহিদা থাকায়! স্পেনের সরকার প্রয়োজনেই খুলা রাখার অনুমতি দিয়েছে বাঙালির  মাছ-মাংস ও সবজির দোকান গুলি সেগুলি এশিয়ার ফ্রুটে ভরপুর! সবকিছু বন্দ থাকলে ও খোলা আছে বাংলাদেশীদের মাছ মাংস চাউল ডাল এর দোকান, স্পানিশ পণ্য নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিগুণ দাম বাড়ছে বাংলাদেশী পণ্য সহ গরু ভেড়া মোরগের মাংস ও দেশীও সবজির ! আর সবগুলি দোকান রয়েছে পাশাপাশি মাদ্রিদের প্রাণকেন্দ্র বাঙ্গালী পাড়া খেত লাভাপিয়েস এরিয়াতে! বাংলাদেশ মালিকানাধীন এশিয়ান ফ্রুট মাছ-মাংস ও সবজির দোকানে দ্বিগুণ মূল্য বৃদ্ধির সত্যতা যাচাই করতে কয়েকটি দোকানে মাছ মাংস ও সবজির দাম জিজ্ঞেস করলাম! সবকটি দোকানে রয়েছে দামের পার্থক্য এক এক দোকানে একই জিনিসের ভিন্ন দাম, প্রতি কেজি গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা করে,তিন টাকা বাড়ানো হয়েছে বেড়া ও খাসির মাংসের দাম,প্রতিটি বেবি মোরগের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে ৫০ পয়সা করে,শক্ত মোরগ আগের চেয়ে দামের ১ইউরো ব্যবধান,ইলিশ রুই কাতলা ব্রিগেড মীরগা পাবদা সহ বাড়ছে সকল প্রজাতির মাছের দাম,দেশীয় শাক-সবজির দামও বাড়ছে সাথে! বাংলাদেশি পণ্যের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে কয়েকজন গ্রাহকের সাথে কথা বলি তাদের একজন, আরিফুল ইসলাম (তুহিন)! তিনি জানান গত সপ্তায় যে খরচ ৫০ইউরোতে করেছি আজ একই পণ্যের দাম ৭৬ ইউরো আমি স্বাভাবিক ভাবেই মনে করি দাম দ্বিগুণ হয়েছে!   হঠাৎ করে মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে মাদ্রিদের প্রবীণ ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান মূলত বাংলাদেশী সব ধরনের পণ্য আমরা লন্ডন থেকে আমদানি করে থাকি! হঠাৎ করে সব কিছুতে দাম বাড়ানোর কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করি না,স্পেনসহ ইউরোপে আমরা যারা এশিয়ান ফুড মাছ মাংস ও সবজির ব্যবসা করি,সবাই এক মাসের পণ্য মজুদ করে রাখি,যেহেতু স্পেনে ১৫ দিনের কারফিউ জারি করা হবে,আমরা ব্যবসায়ীরা তা আগেই জানি,সে ক্ষেত্রে সবার এক দু'মাসের পণ্য মজুদ করা আছে, আমি মনে করি দুর্যোগ মুহূর্তে সকল ব্যবসায়ী সততার সাথে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের চাহিদা মেটানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য! জাকির হোসেন আরও বলেন একেক দোকানে একেক রকম দাম আমরা ব্যবসায়ীদের সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে আমি মনে করি! এক্ষেত্রে ইউরোপের সকল শহরে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদেরকে সৎ ভাবে মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি!