এইচ এম দবির তালুকদার স্পেন থেকেঃ

স্পেনে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে,ঝুঁকিতে রয়েছেন বাংলাদেশী l গত ১৪মার্চ থেকে ১৫দিনের সংগনিরোধ আইন জারির মাধ্যমে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছিল পুরো স্পেন l নতুন করে স্পেনের জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশে পূর্বের আইন জারি তাকবে আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত l স্পেনে লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে, ক্রমেই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা,শত শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে মরণব্যাধি করোনা বাইরাস l আজ শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭, ৪৭২ জন মারা গেছেন ১০, ৯৩৫জন l দেশটিতে এই পর্যন্ত সর্বমোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ১৭হাজার ৭১০জনে l স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা তার প্রভাব পড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপর l স্পেনের বাণিজ্যিক শহর বার্সেলোনা,একটি জনবহুল এরিয়া সেখানেও বসবাস করেন হাজার হাজার বাঙালি, বাংলাদেশীদের মধ্যে কয়েকজন কোভিড ১৯আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন l এপর্যন্ত রোগ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর মিছিলে শামিল হয়েছেন আবুল হোসন (৬৭) নামের একজন বাংলাদেশী l চেনা ও জানা মত স্পেনে বাংলাদেশীদের মধ্যে এ পর্যন্ত রোগ আক্রান্ত হয়ে হসপিটালে ভর্তি হয়েছেন ৪০থেকে ৪৫ জন নারী পুরুষ l   স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশীরা অনেকই ভেতরে ভেতরে কোভিড ১৯ আক্রান্ত হয়ে বাসায় বসে আছেন ভয়ে খুলছে না মুখ l এমন ভয়ানক খবর ছড়িয়ে পড়েছে স্পেনে বসবাসরত বাঙ্গালীদের মধ্যে স্বস্তিতে নেই কেউ l এ খবর সত্যি প্রমাণ হলে ৪০০থেকে ৫০০শতর অধিক প্রবাসী বাংলাদেশীদের শরীরে পাওয়া যাবে কোভিড ১৯এর আলামত l নাম না বলার স্বার্থে স্পেন প্রবাসী আমার কয়েকজন পরিচিত বন্ধু করোনা ভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশীদের ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য জানিয়েছেন l তার মধ্যে একজনের যুক্তি ও কথাগুলি ছিল এমন হুবহু ধরে তোলার চেষ্টা করছি l তিনি বলেন স্পেনের প্রতিটি ব্যাচেলার বাসায় ৬ থেকে ৭ জনের একটি ম্যাচ অাছে এক সাথে বসবাস করে আসছেন তাদের বেশির ভাগই ইলিগ্যাল রাস্তায় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন l ব্যবসার খাতিরে অবাধে মিশেছেন ভ্রমণকারী ও স্থানীয় স্প্যানিশ মানুষের সাথে l তাদের মধ্যে অনেকেই বুঝে উঠতে পারছিলেন না  কিভাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন l রোগ আক্রান্ত অনেকেই যুবক ২০থেকে ২২বছর বয়সের মধ্যে শরীর গরম সর্দি কাশি ঠান্ডা জনিত রোগ ভেবে ঘরে  বসে আছেন অনেকেই l কেউ কেউ আবার ভয়ে মুখ খুলছেন না থাকেন অন্যের সাথে ম্যাচ করে,নেই বৈধ কাগজ সাথের মানুষ জানতে পারলে ঘর থেকে বের করে দিবে l ডাক্তার বাসায় আসলে পুলিশ আসবে হসপিটালে ভর্তি হলে দেখার কেউ নেই, মৃত্যু ব্যক্তির লাশ ইচ্ছা থাকলেও দেশে পাঠানোর কোন ব্যবস্থা নেই l হসপিটালে রোগী দেখতে কেউ আসে না, মৃত ব্যক্তিকে জানাজা ছাড়া দাফন করা হয়,হসপিটালে জায়গা নেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাসায় ফিরে আসতে হয় l সবাই জেনে গেলে সেই বাসায় আর জায়গা পাবেন না এমন ভয় ও ভীতির কারণে রোগ নিয়ে মুখ খুলছেন না ঘরে বসে দিন কাটচ্ছেন,তাতে সংক্রমিত হচ্ছেন আশেপাশের মানুষ l এ সংকট মোকাবেলায় স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটির দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরা এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা l কারণ এভাবে চলতে থাকলে পুরো বাংলাদেশ কমিনিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে l অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন কমিউনিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা থেকে রক্ষা পাবে স্পেনে প্রবাসী বাংলাদেশী সবাই l