মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ

’ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের স্রষ্টা তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র আগামীকাল ২১ জুন রবিবার ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের কবিতায় অবিসস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগś উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

দিনটির স্মরণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মোংলা কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন এবং বিকেলে জোটের মোংলাস্থ অফিসে সীমিত পরিসরে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এছাড়া রুদ্র স্মৃতি সংসদ, আজ কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠেখালিতে সকালে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল এবং দোয়ার আযোজন করেছে। করোনাকালীন দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে এবার শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে এসকল কর্মসুচি পালিত হবে। অন্যদিকে লন্ডন ভিত্তিক ইউটিউব টিভি চ্যানেল ’প্রবাস দর্পন’ রবিবার রাত ৯টায় কবি রুদ্র’র ২৯ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ”ভালো আছি,ভালো থেকো” শিরোনামে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

স্মরনানুষ্ঠানে কবি রুদ্রকে নিয়ে আলোচনা করবেন নাট্যকার মামুনুর রশিদ, গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর, কথা সাহিত্যিক ইসহাক খান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মোংলার আহবায়ক মোঃ নূর আলম শেখ, অভিনেত্রী সুমনা সোমা ও রুদ্র স্মৃতি সংসদ মিঠেখালির সভাপতি সুমেল শারাফাত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় থাকবেন প্রবাস দর্পন সম্পাদক রূপচাঁদ দাশ রূপক।

অকাল প্রয়াত এই কবি যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। দেশ ও জাতির সংকটে রুদ্রের কবিতা হয়ে উঠেছে তারুণ্যের দীপ্র হাতিয়ার। মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন।

পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দু’বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন।