জাকির হোসাইন পর্তুগাল প্রতিনিধি:

কনস্যুলার সেবা বিষয়ে সম্প্রতি সামাজিক যােগাযােগ ও গণমাধ্যমে দূতাবাসের কনস্যুলার সেবার বিষয়ে জনৈক প্রবাসী জনাব তানভির আহমেদের একটি ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য বেশ ভাইরাল হলে দূতাবাসের নজরে এসে। এ বিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব জনাব আব্দুল্লাহ আল রাজি সাক্ষরিত একটি প্রেস বিবৃতি প্রেরণ করেন। পাঠকদের জন্যে হুবহু তা নিম্নে দেওয়া হলো। ‘কনস্যুলার সেবা বিষয়ে দূতাবাসের কিছু বক্তব্য সম্প্রতি সামাজিক যােগাযােগ ও গণমাধ্যমে দূতাবাসের কনস্যুলার সেবার বিষয়ে জনৈক তানভির আহমেদ একটি ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য দূতাবাসের নজরে এসেছে।

এ বিষয়ে দূতাবাসের বক্তব্য তুলে ধরা হলঃ জনাব তানভির আহমেদ তার ভিডিও ও লিখিত বক্তব্যে বলেছেন বিগত সােমবার, ১৩ জুলাই তিনি তার বন্ধুর একটি ডকুমেন্ট হাতে হাতে ডেলিভারী নেয়ার জন্য দুপুর ১২:৪০ টার পূর্বে দূতাবাসের সামনে উপস্থিত হন। তার বক্তব্য মতে তিনি সে সময় দূতাবাসের গেটে হাতে হাতে ডেলিভারি দেয়ার জন্য কাউকে খুঁজে পান নাই। তার এই বক্তব্য সম্পূর্ন অসত্য। গত সােমবার, ১৩ জুলাই হাতে হাতে ডেলিভরী দেয়ার জন্য মােট ১৭ জনকে সময় দেয়া হয়। দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিবের তত্ত্ববধানে কনস্যুলার শাখার কর্মকতা ১২:০০টা সময় দেয়া সকল ডকুমেন্টসহ ১১:৪৫ মিনিটে দূতাবাসের গেটে উপস্থিত হয়ে উপস্থিত সকলকে তার স্ব স্ব ডকুমেন্ট ডেলিভারী দেন। দুপুর ১২:৪০টা সময় দেয়া আর কেউ উপস্থিত না থাকায় কনসলার কর্মকর্তা ১২:১৫ মিনিটে দূতাবাস ভবনে ফেরত আসেন এবং ১২:২৫ মিনিটে পুনরায় দূতাবাসের গেটে যান। তিনি সেখানে ১২:৪০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং ঐদিন ১২:০০টায় ডেলিভারী সময় নেয়া আর কেউ উপস্থিত না থাকায় তিনি হাতে হাতে ডেলিভারীর দুপুর ১২:৪০ টার কার্যক্রম সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে একই কনস্যলার কর্মকর্তা দুপুর ১.০০টায় দূতাবাসে স্থাপিত “ড্রপবক্স” খােলার জন্য যান। সেখানে গাজি সালাহউনিদ্দন নামে একজন প্রবাসী বাংলাদেশী তাকে তার ডকুমেন্ট ডেলিভারীর জন্য অনুরােধ করেন। কিন্তু জনাব গাজি সালাহউদ্দিনের নাম ১৩ জুলাই হাতে হাতে ডেলিভারীর তালিকায় না থাকায় কনস্যুলার কর্মকর্তা তাকে লিখিতভাবে আবার সময় নেয়ার জন্য অনুরােধ করেন। পরবর্তীতে দূতাবাসের রেকর্ড হতে দেখা যায় জনাব গাজি সালাহউদ্দিনকে হাতে হাতে ডকুমেন্ট নেয়ার সময় দেয়া ছিল বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০।

তিনি সময় অনুযায়ী ডকুমেন্ট ডেলিভারী গ্রহণ করেন নাই। হাতে হাতে ডকুমেন্ট ডেলিভারী দেয়া প্রচলন করার শুরুতেই আবেদনের প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলী দূতাবাসের Web App “Mujib 100” ও দূতাবাসের Facebook -এ জানিয়ে দেয়া হয়। যা নিম্নরুপঃ * প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক ডকুমেন্টস্ দুই ভাগে দূতাবাস হতে হাতে হাতে ডেলিভারী দেওয়া হবে। * ডকুমেন্টস ডেলিভারীর জন্য সিরিয়াল অনুযায়ী ফোন নম্বরে SMS এর মাধ্যমে আগের দিন Appiontment দেওয়া হবে। *Appiontment ছাড়া কাউকেই কোন অবস্থাতেই কোন ডকুমেন্টস্ ডেলিভারী দেওয়া হবে না। *যদি কেউ নির্দিষ্ট সময়ে দূতাবাসে আসতে না পারে তাহলে তাকে লিখিত ভাবে দূতাবাসকে জানাতে হবে। *ডেলিভারী নেওয়ার সময় সেবা ফরম অথবা SMS দেখাতে হবে। জনাব তানভীর আহমেদ দুপুর ১২:০০ টা হতে ১৪:১৫ মিঃ পর্যন্ত চিৎকার চেচামেচি করেও দূতাবাসের কাউকে দূতাবাসের গেটে খুজে পান নাই বক্তব্যটি সম্পূর্ন অসত্য ও বাটোয়াট। জনাব তানভীর আহমেদ তার ভিডিও ও লিখিত বক্তব্যে দূতাবাসের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের হয়রানি করার যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ন তার মনগড়া ও অসত্য। কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে দূতাবাসের তথা বাংলাদেশ সরকার তথা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য তিনি এই ভিডিওসহ লিখিত বক্তব্যটি সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমে প্রচার করেছেন বলে দূতাবাস মনে করে। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবন স্বল্প জনবল ও সম্পদ দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সাথে সেবা দিয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী করােনা ভাইরাস সংক্রমেনর পূর্বে-দূতাবাস সকল কনসুল্যার সেবা যে শুধু অত্যন্ত দ্রুততার সাথে (একই দিনে) প্রদান করেছে তাই নয়, দূতাবাস পর্তুগালের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি বা অন্যান্য খামারে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের দোরগােড়ায় গিয়ে সেবা পৌঁছে দিয়েছে। এমনকি করােনা ভাইরাস সংক্রমনের কারণে পর্তুগালে জরুরী অবস্থা ঘােষণার ফলে সবকিছু বন্ধ থাকা অবস্থায়ও দূতাবাস কনস্যুলার সেবা প্রদান বন্ধ করে নাই। করােনা ভাইরাস সংক্রমনের কারনে বিগত ১৯ মার্চ থেকে পর্তুগালে জরুরী অবস্থা ঘােষনা করা হয়। জরুরী অবস্থা জারীর শুরু থেকেই দূতাবাসের নিজস্ব Web App এর মাধ্যমে অলাইনে ডাকযােগ কনস্যুলার সার্ভিস চালু করে। পরবর্তীতে ব্যাংক/অনলাইন ট্রান্সফার/ এটিএম মেশিনের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে।

ক্রমান্বয়ে জরুরী অবস্থা শিথিল করা হলে দূতাবাস পর্তুগাল সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূতাবাসে স্থাপিত ড্রপবক্সে ডকুমেন্ট জমা নেয়া ও হাতে হাতে ডকুমেন্টস দেয়া শুরু করে। বর্তমানে দূতাবাস ডাকযােগে ও ড্রপবক্স এর মাধ্যমে দুইভাবে সেবা নেবার ব্যবস্থা রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলী দূতাবাসের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েব অ্যাপ ‘মুজিব-১০০’ তে দেয়া রয়েছে।এছাড়াও ড্রপবক্সের সামনে বিশালাকার বাের্ডে বড় বড় অক্ষরে এ নিয়মাবলী লেখা আছে। যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করলে দ্রুত সেবা পেতে কারাে কোন অসুবিধা হবার কোন কারন নেই। করােনা ভাইরাস সংক্রমণ দূর্যোগকালীন সময়ে দূতাবাস স্বল্প জনবল ও সম্পদ সত্ত্বেও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সর্বোচ্চ দ্রুততা ও আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এ প্রেক্ষিতে উল্লেখ্য, করােনা ভাইরাস মহামারীর সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তার জন্য দূতাবাস নিম্নলিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেঃ ১। ৭০০ শতাধিক ব্যক্তি ও পরিবারকে এক মাসের জরুরী খাদ্য সামগ্রী ও নগদ ১০ ইউরাে তাদের ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছে। ২। কৃষি খামারে কাজের জন্য সাড়ে তিন শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশীর নামের তালিকা কৃষি খামার মালিকদের কাছে প্রেরণ করেছে। ৩। এছাড়াও উল্লেখযােগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্যোসাল সিকিউরিটি হতে আর্থিক সুবিধা পাবার জন্য দূতাবাস একটি একাউন্টিং ফার্মকে নিয়ােগ করে। ৪। দুইশত ত্রিশজন বাংলাদেশীকে পর্তুগালে ফেরত আনতে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে এবং প্রবাসী যারা এখনও বাংলাদেশে আটকে পড়ে আছেন তাদেরকে পর্তুগালে আনতে দূতাবাস দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইটের জন্য পর্তুগাল কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করছে। ৫। এছাড়াও দূতাবাস সার্বক্ষনিকভাবে করােনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে যােগাযােগ করেছে এবং তাদের সহযােগিতা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। করােনা আক্রান্ত প্রবাসীদের (যারা দূতাবাসের সাথে যােগাযােগ করেছেন) চিকিৎসা এবং আবাসনের ব্যাপারে দূতাবাস পর্তুগীজ কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিতভাবে যােগাযােগ করেছে এবং তাদের নিকট জরুরী খাদ্য সহায়তা পৌছে দিয়েছে। দূতাবাসে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিকের চেয়েও বেশী ফোন কল আসে যার মধ্যে ১০০ কলের বেশি রিসিভ করা সম্ভব হয় না।

দূতাবাস হতে প্রকাশিত সকল বিজ্ঞপ্তিতে ‘মুজিব-১০০’ ওয়েব অ্যাপের ‘আপনার দূতাবাসকে লিখুন’ অপশনে প্রিয় প্রবাসী বাংলাদেশীগণকে যেকোন সমস্যা জানানাের অনুরােধ জানানাে হয়েছে। লিখিতিভাবে জানানাে সকল সমস্যার ব্যাপারে দূতাবাস হতেই ফোন করে সমাধান জানান হয়। অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানানাে যাচ্চে যে,২০১২ সালে লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থাপনের পর হতে গত জুন মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক কনস্যুলার সেবা প্রদান করেছে। যেখানে ২০১৯ সালে দূতাবাস গড়ে প্রতিমাসে ১০৮টি পাসপাের্ট ইস্যু করেছে, সেখানে গত জুন মাসে প্রায় তার চারগুন ৪১২টি পাসপাের্ট ইস্যু করেছে। পর্তুগালে বর্তমানে সীমিত আকারে জরুরী অবস্থা জারি আছে যা আগামী ৩১ জুলাই তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এ সীমিত জরুরী অবস্থায় লিসবন এলাকায় এক সাথে ১০ জনের বেশী লােক সমাগম জরিমানা যােগ্য অপরাধ। এ অবস্থায় দূতাবাসে সরাসরি সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছেনা। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের যে সকল অসুবিধা হচ্ছে সে বিষয়ে দূতাবাস সম্পূর্ন অবগত আছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় প্রবাসী বাংলাদেশীর মাঝে করােনা সংক্রমণ প্রতিরােধেকল্পে দূতাবাসে সরাসরি সেবা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া যথাযথ হবে না বলে দূতাবাস মনে করছে।’