হিমেল তালুকদার, ঠাকুরগাঁও :

আগামী ২৮ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সরব হয়ে উঠছে পীরগঞ্জ পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানামুখী কৌশলে প্রচারণা শুরু করেছেন।

সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পৌর নাগরিকদের মন জয়ের চেষ্টায় তৎপর। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক নেতার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বসে নেই। নিমন্ত্রণ-দাওয়াত বাদ দিচ্ছেন না কেউ। প্রতিটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ভিড় করেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি সমর্থকদের দিয়ে ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার টানানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেজ-গ্রুপ খুলে কৌশলী প্রচারণায় নেমেছেন প্রায় সবাই। শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে অনেকে তাদের প্রার্থিতা হওয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন। অনেকেই ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙ্গিয়ে পৌরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া কামনা করছেন। এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয় নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে আয়োজনের আইন পাস হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। অনেক প্রার্থী এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্ধে পড়েছেন।

আবার অনেক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় নিজ নিজ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে লবিং শুরু করেছেন। শীর্ষ নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এবার দলীয় প্রতীকে প্রার্থী মনোনয়ন হওয়াই বিদ্রোহী হওয়ার সুযোগ না থাকায় সব দলের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। নেতাদের মতে, এবার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে মাঠে নেমে পড়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে রয়েছে আওয়ামিলীগ ও বিএনপি। সেদিক থেকে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে জাতীয় পার্টি তে।

এবার পীরগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নির্বাচনী মাঠে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ৩'জন মনোয়ন পাওয়ার জন্য লবিং শুরু করেছেন। তার মধ্যে বর্তমান পৌর মেয়র কসিরুল আলম,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহার আলী।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন যুদ্ধে মাঠে রয়েছেন পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন,পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজা,উপজেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল হুদা মিঠু, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মইনুল হোসেন সোহাগ, সাবেক পৌর মেয়র মরহুম রাজিউর রহমান রাজুর কনিষ্ঠ পুত্র ও সাবেক ছাত্র নেতা অতিকুজ্জামান আতিক। সেই সাথে ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পীরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম ইসহাক আলীর ভাই জাতীয় পার্টির সদস্য তৈয়ব আলীকে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন বলে জানান নেতাকর্মীরা।

এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি’র অবস্থান সুদৃঢ়। এ কারণে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের এখানে সেভাবে দেখা হয় না। মুলত এই তিন দলের প্রার্থীই ভোটের মাঠে মুল ফেক্টর। ভোটাররা বলছেন সব প্রার্থীরা পরিচিত মুখ কাজেই তাদের সম্পর্কে ভোটারদের আর নতুন করে জানতে হবে না। তাদের ব্যাপারে ভোটাররা মোটামুটি অবগত আছেন। বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত জাতীয় সংসদ, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে এ পৌরসভা এলাকায় ৩'প্রধান দলের প্রধান্যই বেশী। কারণ তাদের ভোটার -সমর্থক বেশী।

এখানে বিএনপি’র রাজনৈতিক অবস্থান ভাল হলেও মামলা হামলার ভয়ে তারা অনেকটা কোন ঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকায় তারা রয়েছেন বেশ ফুরফুরা মেজাজে। মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী নিয়ে কথা না উঠলেও নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে গ্রুপিং। প্রকাশ্যে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের বিরুদ্ধাচারণ করছেন। এতে কিছুটা হলেও সংকটে রয়েছে দলটি। তাছাড়া সরকারী দল আওয়ামীলীগের ভিতরে বেশ গ্রূপিং চলছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় নেতা-কর্মীরা এক হতে না পরলে ভোটের ফলাফল কি হতে পারে, তা নিয়ে শংকায় রয়েছেন নীতি নির্ধারকরা।

যদিও নেতারা বলছেন, ভোটের আগে সব ঠিক হয়ে যাবে। বর্তমান পৌর মেয়র কসিরুল আলম বলেন,পীরগঞ্জে পৌরবাসী আবারো আমাকেই মেয়র হিসেবে দেখতে চান। আমি আমার কাজের মধ্যদিয়ে জনগণের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছি। এই বিষয়টি খুব ভালোভাবেই আমার দলিয় নেতারা জানেন। তাই আমাকেই এবার নৌকা থেকে মনোনীত করবে। আমি জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। মেয়র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক বলেন, দলিয় মনোনয়নের বিষয়ে আমি আশাবাদী। দলিয় নেতা ও পীরগঞ্জের মানুষেরা আমাকে ভালোবাসেন। তাই নৌকার প্রতিকে লড়াই করতে চাই।

আমি মেয়র হলে পৌরসভার উন্নায়নে কাজ করবো। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজা জানান, আমাদের এখানে বিএনপির অবস্থা অনেক ভালো। আমি দলিয় ধানের শিষ প্রতিকের আশা করছি। দল আমাকে সুযোগ দিলে আমি জয় পাবো। উপজেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল হুদা মিঠু বলেন, আমাকে দলিয়ভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমিই বিএনপির মনোয়োন পেতে যাচ্ছি। সঠিকভাবে নির্বাচন হলে আমি জয় পাবো। মেয়র হয়ে পৌরবাসীর পাশে থাকতে চাই।

এদিকে দলীয় প্রতীকে এবং দলীয় মনোয়নের মধ্যে দিয়ে একক প্রার্থী হওয়ার বিধান হয়েছে এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। স্থানীয় নেতারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন আসলে কিভাবে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনেতিক দলের একাধিক প্রার্থীরা নিজেদের প্রতি দলীয় সমর্থন নেওয়ার জন্য ভোটারদের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ১ম সারির নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন ।

অন্যদিকে জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন দ্বিধাদ্বনেদ্ব কারণে তারাও দলীয়ভাবে কোনো দিকনির্দেশনা পাননি প্রার্থিতা চূড়ান্ত করণ বিষয়ে। আর রাজনৈতিক দলগুলো যদি মনোয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্বান্তহীনতায় ভুগে সময় বিলম্ব করে তাহলে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষের সম্ভনা দেখা দিতে পারে কারণ তারা অনেক আগে থেকেই টাকা-পয়সা খরচ করে বিলবোর্ড দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যদি একক প্রার্থী বাছাই করে নিতে পারে তাহলে অনেকটা ঝামেলা মুক্ত হবে বলে মনে করেন ভোট বিশ্লেষকরা।