ওয়াসীম আকরাম, লেবানন থেকেঃ-

লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক ইউনিয়নের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক মহান মে দিবস উদযাপন করা হয়। রোববার (২৩ মে)এই উপলক্ষ্যে বৈরুতে আলকোলা "পেনাসুল" হল রুমে অত্র সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ পাটোয়ারী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন ফেডারেল অফ ট্রেড ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট কেষ্ট আব্দুল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক ওয়াসীম আকরাম, শ্রমিক ইউনিয়ন নেত্রী মায়া বেগম, সুফিয়া আক্তার, মাবিয়া আক্তার। প্রধান অতিথি কেষ্ট আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্বে মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিনিয়ত সংক্রমিত হয়ে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুবরন করছে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য এদেশের সরকার ভ্যাক্সিন দেয়া শুরু করলেও প্রবাসীরা ভ্যাক্সিন পেতে অনেক সময়ের ব্যাপার তাই লেবানন ফেডারেল অফ ট্রেড ইউনিয়ন অফিসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য যারা ভ্যাক্সিন নিতে আগ্রহী তাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার নিবন্ধন করতে আহবান জানান। সবাইকে নিজে নিরাপদে থেকে অন্যকেও নিরাপত্তায় রাখার অনুরোধ জানান তিনি। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক ইউনিয়ন ২০১৭ সালে পহেলা মে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পাঁচ বছর পার হল।দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি অসহায় প্রবাসীদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

 মে দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। এই মে দিবসে প্রবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী বাস্তবায়নের দীপ্ত শপথ নেওয়ার দিন।একশো চল্লিশ বছর আগে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিকেরা সংগ্রাম করেছিল ৮ ঘন্টা কাজ ৮ ঘন্টা রেস্ট এবং ৮ ঘন্টা বিনোদনের জন্য। সেদিন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ৭ জন শ্রমিক ও ৪ জন পুলিশ নিহত হয়।ও-ই দিন তাদের জীবন উৎসর্গ ও আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।এতকিছুর পরও আমরা শ্রমিকেরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রবাসী শ্রমিকদের আট দফা দাবী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জানান তিনি । প্রথমতঃ লেবাননে যে সকল শ্রমিকদের কাগজপত্র নেই তাদেরকে ট্রাভেলস ডকুমেন্ট দিয়ে সরকারি খরচে দেশে ফেরত নিতে হবে। দ্বিতীয়তঃ সহজ শর্তে বিনা সুদে সরকারি ব্যাংক থেকে এক থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণের ব্যবস্হা করতে হবে। তৃতীয়তঃ প্রবাসী শ্রমিকরা যখন বিমানে উঠে আগে বিমান কর্তৃপক্ষ তিন হাজার পাঁচশত টাকার ভিমা পলিসি করেন, কিন্তু সেই টাকা বিশ বছরে একটি শ্রমিক বিদেশ থাকার পরে সুস্হ- সফল বাড়িতে গেলে সে টাকা ফেরত দেওয়া হয়না। তার সম্পূর্ণ টাকা হিসাব করে ভিমা পলিসিতে দিতে হবে শুধু মৃত্যু ব্যাক্তির জন্য তিন লক্ষ টাকা বাজেট করলেই চলবে না।

 সুস্থ ও সবল শ্রমিকদেরকে আওতাভুক্ত করতে হবে। চতুর্থতঃ প্রবাসীদের জন্য অবসর ভাতা চালু করতে হবে। পঞ্চমঃ প্রবাসীদের ছেলে সন্তানদের জন্য সর্বক্ষেত্রে ১৫% কোঠা সরকারি চাকুরির ব্যবস্হা রাখতে হবে। ৬ষ্টতমঃ দালাল মুক্ত এবং সরকারি খরচে সর্বক্ষেত্রে বিদেশে লোক পাঠাতে হবে। সপ্তমতঃ এয়ারপোর্ট, দালাল এবং আমলাতন্ত্র থেকে সকল প্রবাসীদের মুক্ত রাখতে হবে। অষ্টমতঃ বাংলাদেশের পার্লামেন্টে অনন্ত তিশ জন প্রবাসীদের মেম্বার অধিকার দিতে হবে। এছাড়াও বক্তব্য রাখবেন,আবদুল ওয়াল,মোহাম্মদ রনি, এস.এম জসিম, জি.এস.সুমন,আবদুল হাকিম, কামাল উদ্দিন, নিলু মোল্লা, এমডি কামাল,আনোয়ার আক্কন,রবিউল ইসলাম রুবেল, রাকিবুল ইসলাম, সামির হোসেন সহ প্রমুখ। অবশেষে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।